সাংবাদিক আবদুর রহিমের বাড়ি : রাজউকে বিফল হয়ে সচিবালয়ে এমপি’র দাপট

প্রতারণার দায়ে বিচারাধীন আসামিকে এক সাংবাদিকের বাড়ির প্রকৃত মালিক বলে মেনে নেয়ার জন্য সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাল আমমোক্তারনামা দেখিয়ে সাংবাদিক আবদুর রহিমের গুলশানস্থ বাড়ি বিক্রির প্রচেষ্টাকালে ২০০৮ সালের ৫ মে এক সঙ্গীসহ ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুলের শিক্ষক শাহজাহান মোল্লা গুলশান পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে। স্কুলের চাকরি থেকে বর্তমানে বহিষ্কৃত মোল্লা পরে আদলতের জাল রায়ে নিজেকে নির্দোষ দেখিয়ে পূর্ব পদে ফিরে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।
গণপূর্ত ও গৃহায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ওই সংসদ সদস্য প্রভাব খাটিয়ে শাহজাহান মোল্লাকে সাংবাদিক আবদুর রহিমের বাড়ির মালিক বলে মেনে নেয়ার জন্য অবিরাম চাপ দেয়। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি আবদুল মালেকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এমপি সাহেবের মনঃপূত না হওয়ায় তা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপন না করে তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ মহলে চাপ প্রয়োগ দ্বারা পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থা করেন।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি জিল্লার রহমানের দ্বারা গঠিত এক সদস্যবিশিষ্ট দ্বিতীয় তদন্ত কমিটিও প্রথম কমিটির সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্তব্য করে যে, সাংবাদিক রহিম সাহেবের বাড়ির ওপর এমপি সাহেবের আত্মীয় শাহজাহান মোল্লার দাবি সঠিক নয়। নির্দেশ সত্ত্বেও শাহজাহান মোল্লার কথিত ফুফাকে কখনও তদন্ত কমিটিতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। শাহজাহান মোল্লা তদন্ত কমিটিতে বলেন, তার ‘ফুফা’ আবদুর রহিম দৈনিক আজাদে চাকরি করতেন।
এমপি সাত্তার সাহেবের দাবি, যেহেতু প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত শাহজাহান মোল্লার কাছে আমমোক্তারনামা সূত্রে প্রাপ্ত আলোচিত জমির ‘মূল দলিল’ রয়েছে, অতএব মোল্লা সাহেবকে যেন বাড়ির মালিক বলে পূর্ত মন্ত্রণালয় মেনে নেয়। নিজের বক্তব্য পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রহণ করাবার লক্ষ্যে তিনি কর্মকর্তাদের ওপর হম্বিতম্বিও করেন এবং এতেও ফল না হওয়ায় গত ২৭ জানুয়ারি তিনি নানা প্রলোভনও দেখান বিশেষ এক কর্মকর্তাকে। গত ৩১ জানুয়ারি আর একজন সংসদ সদস্য নিয়ে জনাব ছাত্তার পূর্ত সচিবের কাছে তদবির করতে যান। সিআইডি দ্বারা বিষয়টি পুনরায় তদন্তের জোর দাবি জানিয়ে আসেন এমপি সাহেব।
উল্লেখ্য, প্রতারণা মামলাটি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিস্তারিত তদন্তের পর শাহজাহান মোল্লা ও তার অপর দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ আদালতে দাখিল করে ২০০৮ সালের নভেম্বরে।
এদিকে পাকিস্তান অবজারভারের স্টাফ করোসপন্ডেট থাকাকালীন আবদুর রহিম ১৯৬৭ সালে ডিআইটি থেকে গুলশানে ২৬ নম্বর রাস্তার ওপর অবস্থিত ২০/এ প্লটটির বরাদ্দ পান। জনাব রহিম লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে প্রেস মিনিস্টারের দায়িত্ব পালন করার জন্য চার বছর দেশের বাইরে ছিলেন।

Advertisement

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Connecting to %s